August 22, 2026, 2:53 pm
যেসব ইউনিয়নে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প-কারখানা গড়ে উঠেছে, সেখানকার পরিবারগুলোয় অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এসেছে এবং কাজের সন্ধানে এসব পরিবারের কেউ বাইরে যাচ্ছে না। এ জন্য শিল্প-কলকারখানা বিকেন্দ্রীকরণের পাশপাশি ইউনিয়ন পর্যায়ে অবকাঠামোগত উন্নয়ন বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বুধবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) এক সেমিনারে এ অভিমত ব্যক্ত করেন বক্তারা।
‘স্থানীয় পর্যায়ে শিল্প কারখানার সুযোগ ও অভিবাসী সিদ্ধান্ত’ শীর্ষক সেমিনারে বিআইডিএসের সিনিয়র গবেষক ড. কাজী ইকবাল বলেন, অনেক ইউনিয়নে এসএমই থাকায় সেখানকার মানুষের আয় বাড়ছে। তারা কাজের জন্য অন্য জেলায় যাচ্ছেন না। এজন্য ‘লোকালি ননফার্ম অপরচুনিটি’ তৈরি করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, কাজের জন্য দেশের ভেতরে যে মাইগ্রেশন হয়- তার মধ্যে ৮০ শতাংশই ঢাকা ও চট্টগ্রামে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে নীতিগত পরিবর্তন আনতে হবে। ইউনিয়ন পর্যায়ে রাস্তা, কালভার্ট নির্মাণ করতে হবে।
সেকেন্ডারি টাউন করা যেতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, গ্রামের আশপাশে আরেকটা শহর, ইন্ডাস্ট্রিয়াল হাব করতে পারলে মানুষ শহরমুখী হবে না। কোনো ধরনের ইন্ডাস্ট্রি কোথায় থাকলে দেশের ইকনোমিক গ্রোথ ও ডেভেলপমেন্ট হবে সেটা নিয়ে সরকারের স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে।
কৃষি উন্নয়ন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ বলেন, উন্নয়ন পরিকল্পনায় আধুনিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক কৃষিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তাহলে কাজের জন্য শহরমুখী প্রবণতা কমবে।
বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. বিনায়ক সেন বলেন, এসএমই ক্লাস্টার ডেভেলপমেন্ট করায় অনেক পরিবারে আয় বেড়েছে। তার মানে ইউনিয়ন বা উপজেলা পর্যায়ে যদি ইন্ডাস্ট্রিয়াল হাব করতে পারি, তাহলে কাজের জন্য জেলার বাইরে ছুটোছুটি কমবে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, দেশের ১২ দশমিক ৯০ পরিবারের অতি দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। এছাড়া ১২ দশমিক ৩০ শতাংশ নারীপ্রধান পরিবার অতিদরিদ্র, আর ১৩ শতাংশ পুরুষপ্রধান পরিবার অতিদরিদ্র।